পীরের কদমবুচি ও শরিয়তেরহুকুম | মুফতী ফখরুল ইসলাম নিজামপূরী | ইসলাম বিডি

.রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
পীরের কদমবুচি ও শরিয়তেরহুকুম | মুফতী ফখরুল ইসলাম নিজামপূরী

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম
ওয়ারাহমাতুল্লাহ
ভিবিন্ন মাজারে দেখা যায় , যখন
কোন লোক সেখানে যায় তখন
তারা তাদের পীরদেরকে সালাম
না করে কদমবুচি করে। এখন প্রশ্ন হল,
এভাবে সালাম না করে কদমবুচি
করা শরীয়ত সম্মত? দলীলসহ জানালে
উপকৃত হবো।
উত্তরঃ
ওয়ালাইকুমুস সালাম
ওয়ারাহমাতুল্লাহ
নবীজি সাঃ এর শিক্ষা ও আদর্শ
মুসলমানের বড় সম্পদ। জীবনের
প্রতিটি ক্ষেত্রে ঐ মহান আদর্শ
বাস্তবায়ন করাই সকলের ইমানী
দায়িত্ব। অন্যান্য বিষয়ের মত পরস্পর
সাক্ষাতের সময় করণীয় সম্পর্কে
নবীজি (সঃ) নির্ধারণ করে
দিয়েছেন এবং পরিহার্য বিষয়গুলো
চিহ্নিত করে দিয়েছেন
পরিস্কারভাবে। আর তা হলো,
কারো সাথে সাক্ষাত হলে সুন্নাত
হলো সালাম মুসাফাহা করা।
কারো সাথে সাক্ষাত কালে
সালাম মুসাফাহার সুন্নাতটি আদায়
করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন ভিবিন্ন
ভাষায় এবং এটার মাঝে রয়েছে
অনেক ফজিলত।
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে
বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাঃ
এরশাদ করেন,
ﺇِﺫَﺍ ﻟَﻘِﻲَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﺃَﺧَﺎﻩُ ﻓَﻠْﻴُﺴَﻠِّﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻓَﺈِﻥْ ﺣَﺎﻟَﺖْ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ
ﺷَﺠَﺮَﺓٌ ﺃَﻭْ ﺟِﺪَﺍﺭٌ، ﺃَﻭْ ﺣَﺠَﺮٌ ﺛُﻢَّ ﻟَﻘِﻴَﻪُ ﻓَﻠْﻴُﺴَﻠِّﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
অর্থ, যখন তোমরা তোমাদের কোন
মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত
হবে তখন তাকে সালাম দাও। যদি
তোমাদের মাঝে কোন গাছের,
কোন দেয়ালের অথবা কোন
পাথরের আড়াল হয় অতঃপর তার
সাথে আবার দেখা হয়েছে পূনরায়
তাকে সালাম দাও।
(সুনানে আবু দাউদঃ হাদিস  নং
৫২০০)
যখন কারো সাথে দেখা হয় তখন তার
সাথে মুসাফাহা করার ফযীলত
সম্পর্কে হাদীসে আছে,
ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺒَﺮَﺍﺀِ ﺑْﻦِ ﻋَﺎﺯِﺏٍ، ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: ‏«ﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﺘَﻘَﻰ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤَﺎﻥِ ﻓَﺘَﺼَﺎﻓَﺤَﺎ، ﻭَﺣَﻤِﺪَﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ
ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ، ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔَﺮَﺍﻩُ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻬُﻤَﺎ
অর্থ, হযরত বারা ইবনে আযেব রাঃ
থেকে বর্ণিত রাসূল সাঃ এরশাদ
করেন, যখন দুই জন মুসলমান সাক্ষাত
করলো। অতপর তারা মুসাফাহা
করলো। এবং আল্লাহ তায়ালার
প্রসংসা করলো। এবং উভয়ে
এসতেগফার করলো। তাহলে উভয়কে
ক্ষমা করে  দেয়া হবে।
(সুনানে আবু দাউদঃ হাদিস নং
৫২১১)
আমরা এর থেকে বুঝতে পারি
কারো সাথে সাক্ষাত হলে
সেখানে সুন্নাত হলো, সালাম
মুসাফাহা করা। কদম বুচি করা নয়।
রাসূল সাঃ এর কোন হাদীসে এমন
কি কোন সাহাবির আমলেও এই
ধরনের কোন কথা পাওয়া যায় না।
তাই এই কাজটা জায়েয হবে না।
তাছাড়াও মৌলিকভাবে কদমবুচি
করা জায়েজ না হওয়ার অন্যতম কারণ
হলো।
১-গাইরুল্লাহের সামনে মাথা নত
করা হয় ।
২-হিন্দুয়ানী রুসুম তথা বিধর্মীর
অনুকরণ করার কারণে।
সুতারাং কোন পীর বুজর্গের
সাক্ষাতে কদমবুচি পরিহার করে
সালাম মুসাফাহার সুন্নাত আদায়
করা সকল মুসলমানের কর্তব্য।
আল্লাহ সকল কে বুজার তাওফিক দান
করুক।
আমিন

মুফতী ফখরুল ইসলাম নিজামপূরী

পরিচালকঃ ফিকহে হানাফী রিসার্চ সেন্টার,চট্টগ্রাম,বাংলাদেশ।       
NaSiR

NaSiR

আমি মোঃ নাসির উদ্দিন, পেশায় একজন চাকরিজীবি। বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছি। আমি অবসর সময়ে অনলাইনে ইসলামিক আর্টিকেল শেয়ার করার পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এবং কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে করি।

Comments Section